উৎপাদনে বাড়াবাড়ি, চাহিদায় ভাটা! কমেছে ডিমের দাম

ঢাকা: ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫

অতিরিক্ত উৎপাদন এবং বাজারে পর্যাপ্ত সবজি ও মাছের সরবরাহ থাকার কারণে দেশব্যাপী ফার্মের মুরগির ডিমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমানে অনেক খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিমের দাম কমে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহেও ১১০ থেকে ১২০ টাকা ছিল।

খামারি, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিমের দাম কমার মূল কারণ হলো চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি

  • উৎপাদন বৃদ্ধি: অনুকূল আবহাওয়া এবং মুরগির রোগবালাই কম থাকায় খামারগুলোতে ডিমের উৎপাদন বেড়েছে। ফলস্বরূপ, পাইকারি বাজারে ডিমের সরবরাহ বেড়েছে।

  • চাহিদা হ্রাস: শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ততা, বাজারে মাছের সন্তোষজনক সরবরাহ এবং তুলনামূলকভাবে গরুর মাংসের দাম সহনীয় থাকায় ভোক্তারা ডিমের দিকে কম ঝুঁকছেন। এর ফলে ডিমের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে।

ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। তবে প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, মুরগির খাদ্য ও ওষুধের দাম এখনও বেশি, কিন্তু ডিমের দাম কমে যাওয়ায় তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। তাদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে পোল্ট্রি শিল্পে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মত: অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারমূল্য যদি উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি কমে যায়, তবে খামারিরা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবেন। এতে ভবিষ্যতে বাজারে ডিমের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এই খাতে সরকারের নীতি সহায়তা এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিমের দামের এই প্রবণতা আগামী কিছুদিন অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।